রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মধু পূর্ণিমায় বাংলাদেশে রাতভর তাণ্ডব বৌদ্ধ বসতিতে


বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ৩০ (www.bengalinews.net)- ফেইসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধবসতিতে হামলা চালিয়ে রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে কিছু ধর্র্মীয় উগ্রবাদী। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে এই হামলা। মধু পূর্ণিমার রাতেই রামু উপজেলার ৭টি বৌদ্ধ মন্দির, প্রায় ৩০টি বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে আরো শতাধিক বাড়ি ও দোকানে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার সকাল থেকে রামুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কোরআন শরিফ অবমাননা করে ছবি সংযুক্ত করার অভিযোগ এনে একটি ইসলামী দলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হয় শনিবার রাত ১০টার দিকে। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, রামু উপজেলার বৌদ্ধ পাড়ার উত্তম বড়ুয়া নামের এক যুবক ফেইসবুক একাউন্টে কোরআন অবমাননার ছবিটি পোস্ট করে। ওই যুবককে আটক করারও দাবি জানান বক্তারা। সমাবেশ শেষে কিছুক্ষণ পর আবারো একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে রামুর বড়ুয়া পাড়ায় পৌঁছানোর পর কয়েকজন যুবক স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয়। এরপর ওই এলাকার অন্তত ১৫টি বাড়ি, তিনটি বৌদ্ধ মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাঙচুর হয় শতাধিক বাড়িতে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে হামলা হয় রামু সদর উপজেলা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে রামু মিঠাছড়ির বনবিহারে ও কয়েকটি বাড়িতে। সেখানে বিহারটি পুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে নির্মাণাধীন শতফুট উচু বুদ্ধ মুর্তিটিও ভাংচুর করা হয় বলে রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নিতিশ বড়ুয়া জানান। রাতভার হামলায় রামুর ‘সাদা চিং’, ‘লাল চিং’, রামু মেত্রী বিহার, সীনা বিহার, জাদী পাড়া বৌদ্ধ বিহার, বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও মিঠাছড়ি বনবিহারে অগ্নি সংযোগ করা হয়। এর আগে প্রতিটি মন্দিরেই ভাংচুর ও লুটতরাজ চলে। চৌমুহনী-চেরাংঘাটা সড়ক, মিঠাছড়ি ও বড়–য়া পাড়ার প্রায় ৩০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে সীমান্তের ওপারে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার পর তাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকালে দেশের নাগরিক সমাজের একটি অংশ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। সরকার এ ঘটনায় সাম্প্রদায়িক শক্তির ইন্ধন ছিল বলেই মনে করছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন